সফরত ভারতের রাষ্ট্রপতি

বুলেট বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মুছে দিতে পারেনি : কোবিন্দ

বুলেট বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মুছে দিতে পারেনি : কোবিন্দ

সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ বৃহস্পতিবার বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধীরা যারা বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, তারা বুঝতে পারেনি যে বুলেট এবং সহিংসতা এমন একটি ধারণাকে নির্বাপিত করতে পারে না যা মানুষের কল্পনাকে ধারণ করেছে।


তিনি বলেন, সর্বোপরি স্বাধীনতাবিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় সংকল্প এবং সহনশীলতার উপর নির্ভর করেনি, যিনি অসাধারণ সাহসিকতার সাথে গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টা এবং স্বৈরশাসন মোকাবিলা করেছিলেন।

ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় এবং তার বিদ্রোহী চেতনার দ্বারা চালিত হয়েছেন, যেমনটি মহান কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতায় বর্ণিত হয়েছে।

রাজধানীতে বিজয় দিবস ও মুজিববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলাদেশের পরিশ্রমী ও উদ্যোগী জনগণ বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শগুলো বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এমন একটি বাংলাদেশ যা শুধু রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন নয়, বরং একটি ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রও বটে। দুঃখের বিষয়, জীবদ্দশায় তার দর্শন বাস্তবায়িত হতে পারেনি।
কোবিন্দ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই ঐতিহাসিক ৫০তম বার্ষিকীতে, আমি আপনাদের ১৩০ কোটি ভারতীয় ভাই-বোনদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমরা আপনাদের সাথে এই ঐতিহাসিক দিনটি উদযাপন করছি: পঞ্চাশ বছর আগে, দক্ষিণ এশিয়ার আদর্শিক মানচিত্র পরিবর্তিত হয়েছিল এবং গর্বিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল।

এই উপলক্ষে আমি বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের, বিশেষ করে নির্যাতিতা মা-বোন-কন্যাদের অবর্ণনীয় দুঃসহ স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আত্মত্যাগ এবং বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবিই এই অঞ্চলকে বদলে দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ বলেন, ইতিহাস সর্বকালে আমাদের বন্ধুত্বের এই অনন্য ভিত্তির সাক্ষ্য দেবে যে  বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সহযোগী হিসেবে ভুমিকা পালন করেছিল ।

তিনি বলেন, সেই যুদ্ধের কয়েকজন সাক্ষী (ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েরই) এখানে দর্শকদের মধ্যে রয়েছেন। যাদের মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও রয়েছেন এবং তারা আমাদের বিশ্বাস এবং বন্ধুত্বের শক্তির জীবন্ত সাক্ষ্য, যা পাহাড়কেও টলাতে পারে।

বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে তার সফর ও অংশগ্রহণের আমন্ত্রণকে একটি অনন্য সম্মান বলে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ বলেন, এটি আমাদের বিশেষ বন্ধুত্বের একটি সত্যিকারের প্রতিফলনও বটে। আমি আনন্দিত যে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর মতোই, কোভিড মহামারী শুরু হওয়ার পর ভারতের বাইরে আমার প্রথম সফর আপনাদের দেশ বাংলাদেশে। মুজিববর্ষ উদযাপনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমিও সম্মানিত।

তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছরের কিছু আগে, একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল। কিন্তু তখন সমালোচক, সন্দেহবাদী এবং নিন্দাকারীদের কাছে এটি একটি দূরবর্তী এবং অসম্ভব স্বপ্ন বলে মনে হয়েছিল। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেন মুক্তির সম্ভাবনাকে বাতিল বলে মনে হচ্ছিল। একটি নিষ্ঠুর, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সুসজ্জিত শত্রু, যারা কোনো কিছুতেই থামবে না, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাংলাদেশের প্রতিকূলতা ছিল অনেক বেশি।
ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণামূলক নেতৃত্ব, সুস্পষ্ট নৈতিক দৃঢ় প্রত্যয় এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রতি ন্যায়বিচারের জন্য তার অদম্য দৃঢ়তা ছিল সত্যিকার অর্থে পট পরিবর্তনকারী। ফলস্বরূপ, বিশ্ব একটি মূল্যবান শিক্ষা পেয়েছে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছাকে কোনো শক্তি দ্বারা দমন করা যায় না, তা যতই নৃশংস হোক না কেন।
সূত্র : ইউএনবি

পাঠকের মন্তব্য