উত্তর প্রদেশে হাসপাতালে অক্সিজেন বন্ধ: ২২ রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের আগ্রায় শ্রী পরশ নামে এক বেসরকারি হাসপাতালে মক ড্রিলের নামে অক্সিজেন বন্ধ হওয়ায় ২২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) গণমাধ্যমে ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই  হাসপাতালটি ‘সিল’ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি হাসপাতালের সঞ্চালকের বিরুদ্ধে মহামারি আইনে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রধান সচিব শ্রী পরশ হাসপাতালের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন।  

ওই ঘটনায় কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী এমপি আজ (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, ‘বিজেপি শাসনের অধীনে অক্সিজেন এবং মানবতা উভয়েরই মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। ওই বিপজ্জনক অপরাধের জন্য দায়ী সকলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই দুঃখের মুহূর্তে নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা।’ 

কংগ্রেসের মহাসচিব প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এক বার্তায় বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী  বলেছেন আমি অক্সিজেনের অভাব হতে দিইনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন অক্সিজেনের অভাব নেই। সংকটজনিত গুজব ছড়ানো লোকেদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। মন্ত্রী বলছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের অক্সিজেন দিন। খুব বেশি অক্সিজেন দেবেন না। আগ্রা হাসপাতালে অক্সিজেন শেষ হয়েছিল। ২২ রোগীর অক্সিজেন বন্ধ করে মক ড্রিল পরিচালিত হয়েছিল। এজন্য কে দায়ী?' 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে প্রকাশ, এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের মালিক পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘মক ড্রিল’-এর অংশ হিসেবে গত ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে পাঁচ মিনিটের জন্য অক্সিজেনের জোগান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাই সেদিন মারা যান ২২ জন রোগী। ওই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য পরিসেবা নিয়ে।  

সম্প্রতি ওই হাসপাতালের মালিক অরিঞ্জয় জৈনের কথোপকথন প্রকাশ্যে আসে। এতে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছিল যে, মুখ্যমন্ত্রীও অক্সিজেন জোগাড় করতে পারছেন না। ফলে রোগীদের হাসপাতাল ছাড়তে হবে বলে নির্দেশ এসেছিল। রোগীদের পরিবারের লোকজনকে বোঝানো শুরু করি। কয়েকজন হাসপাতাল ছাড়তে রাজি হলেও অনেকেই যেতে চাননি।

তখন আমি বললাম, চলো একটা ভুয়ো মহড়া করি। কারা মরে আর কারা বেঁচে যান, তা দেখা যাবে। ২৭ এপ্রিল সকাল ৭টায় তা-ই করেছিলাম। কেউ জানেন না। ৫ মিনিটের জন্য হাসপাতালে অক্সিজেন বন্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা ২২ জন রোগীকে চিহ্নিত করি। বুঝতে পারি তাঁরা মারা যাবেন। কিছুক্ষণ পরই ওই ২২ জনের শরীর নীল হতে শুরু করে।’

ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসসহ অন্যরা উত্তর প্রদেশ সরকারের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টি আজ এক বিবৃতিতে বলেছে ‘বিজেপি সরকারের বেহাল স্বাস্থ্যসেবার অধীনে এটি ‘গণহত্যা’। আগ্রার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মক ড্রিলের নামে অক্সিজেন বন্ধ করে ২২ জনের হত্যাকাণ্ড একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। বিষয়টি তদন্ত করে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’  

উত্তর প্রদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রী জয় প্রতাপ সিংয়ের বক্তব্য- তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই কিছু বলা যাবে।

   

পাঠকের মন্তব্য