হাটহাজারীতে নিজ ঘর থেকে ইউনির্ভাসিটি ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় নিজ ঘর থেকে এশিয়ান ইউনির্ভাসিটির এক ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের নাম মো. এমদাদ উল্লাহ অরফে হাসান সিকদার।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পৌরসভা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ড মিরেরখিল এলাকার ‘মায়ের আঁচল’ নামে একটি ভবন থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের ধারণা, হাসান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

নিহত হাসান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ান ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশের (এইউবি) বিএ (সম্মান) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র। তিনি একই এলাকার মৃত মো. রফিক সিকদারের ছেলে। নিহত হাসান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস লিমিটেডের সিকিউরিটি গার্ডও ছিলেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. ইউনুস মিয়া জানান, এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের পর হাসান ঢাকায় এশিয়ান ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশে (এইউবি) ভর্তি হন। এর পর পড়াশোনার পাশাপাশি বেসরকারি বিমানসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস লিমিটেডের সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরি নেন।

গত রোববার কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি মিরেরখিলে যান হাসান। সেখানে বড়বোন লাকি আক্তারের কাছে চাবি নিয়ে পর দিন সোমবার তিনি উপজেলার পৌরসভা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ড মিরেরখিল এলাকার গ্রামের বাড়িতে ওঠেন।

মঙ্গলবার দুপুরে খোঁজ নিতে বোন লাকি কয়েকবার হাসানের মোবাইল ফোনে কল করেন। কিন্তু হাসান রিসিভ করছিলেন না।

পরে রাতে বোন বাড়ি গিয়ে দেখেন ঘরের দরজার ভেতর থেকে আটকানো। এতে তাদের সন্দেহ হলে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় হাসানের মরদেহ সিলিংফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে।

এ ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. মাসুদ আলম জানান, নিহতের সুরুতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এর পর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

নিহত হাসানের বড় ভাই আহমদ উল্লাহ জানান, রোববার ভাই চট্টগ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যায়। অথচ আজ তার মৃত্যু খবর পেলাম। পুলিশ পৌরসভা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ড মিরেরখিল এলাকার গ্রামের বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে রওনা দিয়েছি। সেখানে পৌঁছে বিস্তারিত জানতে পারব।

এশিয়ামেইল২৪/মে.হা.তা.

পাঠকের মন্তব্য