মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ ফারুক ইকবাল

শেখ ইয়াছিন আলম:-
আজ ৩ মার্চ স্বাধীনতা আন্দােলনে দেশের প্রথম শহীদ ফারুক ইকবালের ৫০ তম শাহাদাৎ দিবস। ঢাকার মৌচাক মার্কেট মোড়ে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদের নাম ঠিকানা।ফলকে লেখা আছে আবুজর গিফারী কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক শহীদ ফারুক ইকবাল (ছাত্রলীগ নেতা) মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ। তিনি ৩ রা মার্চ ১৯৭১ সালে শহীদ হন। শহীদ ফারুক ইকবাল ২৯৪/১ গুলবাগ, মালিবাগ, ঢাকা এলাকার মরহুম আফছার উদ্দীনের ছেলে।

৭০’ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুশ জয়ের পর সারাদেশের মানুষ উদ্বেলিত হয়েছিলো। ৭১' সালের ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হলেও চূড়ান্ত আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল একাত্তরের ১মার্চ থেকেই। ইয়াহিয়া খান একাত্তরের ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করলেও ১মার্চ তা স্থগিত করেন। যার প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারাদেশে হরতাল ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনির বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্বে এসে শুরু হয় স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। সারা দেশে ১৪৪ ধারা জারি করে পাকিস্তান সরকার। সেই অগ্নি ঝরা দিনে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল বের করে ছাত্র সংসদ। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালালে শহীদ হন ফারুক ইকবাল। 

আবুজর গিফারি কলেজের গণিত বিভাগীয় প্রধান এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক  জনাব আলমগীর হোসেন বলেন,  “ভয় নাই, ওরে ভয় নাই। নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।” শহীদ ফারুক ইকবাল বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে মিশে আছে। তিনি শুধুমাত্র একটি নাম নয়  বরং তিনি একটি ইতিহাস। আমরা তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। শহীদ ফারুক ইকবাল অত্যন্ত সাহসী ছিলেন।  দেশের প্রত্যেক আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কারনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর টার্গেটে পরিনত হন। যার ফলশ্রুতিতে ঘটনার দিন কারফিউ উপেক্ষা করে একটি মিছিল টিভি সেন্টারের দিকে যাওয়ার পথে পাক বাহিনী গুলি চালালে মুহূর্তের মধ্যে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঐ জায়গায় শাহাদাৎ বরন করেন।

আমরা শিক্ষক - শিক্ষার্থী সম্মিলিতভাবে তাকে অত্যন্ত  শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য প্রদান, দোয়া অনুষ্ঠান সহ নানামুখী  অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি। শহীদের পরিবারের খোজ খবর রাখার চেষ্টা করি।

এশিয়ামেইল২৪/গাজীআক্তার

পাঠকের মন্তব্য