বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে: ’দ্যা স্কলারস ফোরাম’

সাতক্ষীরার  আশাশুনি  উপজেলায়  বন্যায়  ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে 'দ্যা স্কলারস ফোরাম'।  গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বন্যায়  ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে এ ত্রাণ ও  আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদান দেওয়ার সময় ফোরামের অন্যতম উপদেষ্টা  মুহম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, সমাজের প্রতি প্রত্যেকেরই একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই জায়গা থেকেই আমরা চেষ্টা করি সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় দরিদ্র মানুষের সেবা করতে।  

আমরা আশা করি, সমাজের যারা বিত্তবান রয়েছেন তারাও দূর্গতদের কল্যাণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবেন। এ সময় সরকারের প্রতি ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও পুননির্মাণে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

দ্যা স্কলারস ফোরাম এর সাবেক  পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বন্যার তাণ্ডবে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলের জমি, পুকুড় তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

লাখো মানুষের বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সহায়তার জন্য হাহাকার উঠলেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তার তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সংকটাবস্থা কাটিয়ে উঠায় সহযোগিতার লক্ষ্যে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে সরকার ও সামর্থবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সবাই মিলে এগিয়ে আসলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের অসহায় অবস্থার দ্রুত অবসান ঘটতে পারে।  

আমরা বিশ্বাস করি যার যার অবস্থান থেকে সবাই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে অল্প সময়ে  বন্যায়  ক্ষতিগ্রস্তদের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব। এ সময় বন্যায় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাণহানি ও মানুষজনের বাড়ি-ঘরসহ ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

এসময় ফোরামের পরিচালক মু. মুজিবুর  রহমান বলেন, এ দেশের মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে টিকে আছে যুগ যুগ ধরে।  আমরা বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দুর্যোগ কবলিত মানুষ ব্যথা-বেদনা, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে নব উদ্যমে আবার সবকিছু গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

উল্লেখ্য, আশাশুনি  উপজেলায়  চারটি ইউনিয়নের ৭০টির অধিক গ্রামের ২০ হাজার পরিবারের মানুষ পানিবন্দি। আশাশুনি সদর, প্রতাপনগর, শ্রীউলা  ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পাঠকের মন্তব্য