তবুও থেমে যাননি সালমান ভাই: শাকিব খান

গত (৬ সেপ্টেম্বর) তার অকাল প্রস্থানের দিন। মাঝে পেরিয়ে গেছে দুই যুগ। তবু ভোলেননি দেশের মানুষ। দর্শক, ভক্ত তো বটেই, আজকের প্রজন্মের অনেক নায়কের কাছে তিনি আজও ইন্দ্রজালিক এক জাদুকর। তাকেই আদর্শ মানেন অনেকে। এই কাতারে আছেন বর্তমানের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানও।

তিনি মনে করেন, এখনকার প্রেক্ষাপটে এমন নায়ক খুব দরকার ছিল। কিং খানের ভাষায়, ‌‌‘আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমরা উপলব্ধি করি, সালমান ভাইয়ের মতো নিখুঁত, সাবলীল একজন স্টাইল আইকন তখন (নব্বই দশক) খুব দরকার ছিল। অন্তত পশ্চিমা আইকনিজমের কাউন্টার দেওয়ার জন্য। তৎকালীন সালমান শাহ সেটা হয়েও উঠছিলেন। 

তাকে দেখে কত তরুণ যে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে আগ্রহী হয়েছে সেটা আর নাই বা বললাম। সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা আমাদের এ পূর্বসূরি অভিনেতার মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানাই।’

সালমান শাহ’র মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে কথাগুলো নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন শাকিব খান। করেছেন পূর্বসূরিকে মূল্যায়নও। এভাবে, ‘সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা এক নাম সালমান শাহ। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অগণিত ভক্ত দর্শকের ভালোবাসায় নিজেকে খ্যাতির চূড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

তিনি ছিলেন ভীষণ কাজপাগল মানুষ। ভালো কাজের বিকল্প কিছু নেই, এ কথা তার চেয়ে আর বেশি কে জানতো! মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে তার সিনেমার সংখ্যার দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই কিছু মানুষের চক্ষুশূল হয়েছিলেন তিনি। তাকে থামিয়ে দিতে বহু অপচেষ্টা হয়েছিল; সংবাদমাধ্যমগুলো তার সাক্ষী। 

তার মতো সর্বপ্রিয় মানুষটিকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল! তবু থেমে যাননি সালমান ভাই। অভিনয় চালিয়ে গিয়েছিলেন। ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনে একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়ে গেছেন। হয়তো সেজন্য মৃত্যুর চব্বিশ বছর পরেও তার জন্য মানুষ চোখের পানি ফেলেন।’

শাকিব জানান, চলচ্চিত্রের একজন সিনিয়র অভিনেতার প্রতি মানুষের ভালোবাসার এই নিদর্শন তাকেও ভীষণভাবে ছুঁয়ে যায়। উদ্বেলিত করে; সাহস ও শক্তি জোগায় তাকে।

উল্লেখ্য, ৯০ দশকের শ্রেষ্ঠতম নায়ক সালমানের প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। এ অভিনেতা মাত্র ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যার বেশিরভাগই ছিল তুমুল জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল। মাত্র তিন বছরের অভিনয় জীবনে এমন দর্শকপ্রিয়তা চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিরল।

১৯৯৩ সালে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‌‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তি পায়। এরপর থেকেই বাংলা চলচ্চিত্রে ভরসার প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছিলেন এ নায়ক। ১৯৯৬ সালের এই দিনে (৬ সেপ্টেম্বর) তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

পাঠকের মন্তব্য