ব্ল্যাকউডের ব্যাটে জয় লিখল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই জয়ের ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ক্যারিবীয়রা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের জন্য ২০০ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তারা দলীয় ৭ রানের মধ্যেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে। মাত্র ৪ রান করে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট বোল্ড হন জফরা আর্চারের বলে।

আরেক ওপেনার জন ক্যাম্পবেল রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। তৃতীয় উইকেটে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শাই হোপ। তিনি ফিরেন মাত্র ৯ রান করে মার্ক উডের গতির কাছে পরাস্ত হয়ে। শামরাহ ব্রুক্স কোনো রান না করেই আর্চারের দ্বিতীয় শিকার হন। চতুর্থ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাল ধরেন রস্টন চেজ এবং জার্মেইন ব্ল্যাকউড। এই দুজনে যোগ করেন ৭৩ রান। ৩৭ রান করা চেজকে ফিরিয়ে এই জুটিও ভাঙেন ইংলিশ পেস ম্যান আর্চার।

পঞ্চম উইকেটে শেন ডওরিচকে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের পথে নিয়ে যান ব্ল্যাকউড। জুটি গড়ার পথে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ব্ল্যাকউড। চা পানের বিরতির পর ২০ রান করা ডওরিচের উইকেট তুলে নেন স্টোকস। এর ঠিক আগের বলেই নো বলের কল্যাণে জীবন পেয়েছিলেন এই ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান। ডওরিচের ফেরার পর অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে নিয়ে সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছিলেন ব্ল্যাকউড। ব্যক্তিগত ৯৫ রানে তিনি স্টোকসকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তিনি জেমস অ্যান্ডারসনকে ক্যাচ দেন।

দলের বিপর্যয়ে ইনজুরি নিয়েই আবার মাঠে ফিরেন ওপেনার ক্যাম্পবেল। তাঁর সঙ্গ পেয়ে হোল্ডারের দৃঢ়তায় জয়ের দেখা পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক অপরাজিত থাকেন ১৪ রান করে। এর আগে পঞ্চম দিন খেলতে নেমে ৩১৮ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিন ৮ উইকেটে ২৮৪ রান নিয়ে শেষ করে ইংল্যান্ড। পঞ্চম দিন সকালে বাকি দুই উইকেটে আর মাত্র ৩৪ রান যোগ করতে সক্ষম হয় ইংলিশরা।

দুটি উইকেটই নিজের ঝুলিতে নেন ক্যারিবীয় পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। আর তাতেই পাঁচ উইকেটের বৃত্ত পূরণ হয় তাঁর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলপতি জেসন হোল্ডার নেন ১টি উইকেট। এ ছাড়া রস্টন চেজ এবং আলজারি জোসেফ নেন ২টি করে উইকেট।

ইংল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন জ্যাক ক্রলি। ডম সিবলির ব্যাট থেকে আসে ৫০ রান। অধিনায়ক বেন স্টোকস করেন ৪৬ এবং ররি বার্নসের ব্যাট থেকে আসে ৪২ রানের ইনিংস। আর্চার শেষদিকে ব্যাট চালিয়ে নেন ২৩ রান।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের বোলিং তোপে মাত্র ২০৪ রানে অল আউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। জবাবে ব্যাটিং করে ৩১৮ রানে শেষ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। ফলে প্রথম ইনিংস থেকে ১১৪ রানের লিড পায় ক্যারিবীয়রা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড (প্রথম ইনিংস)- ২০৪/১০ (৬৭.৩ ওভার) (স্টোকস ৪৩, বাটলার ৩৫; হোল্ডার ৬/৪২, গ্যাব্রিয়েল ৪/৬২) 
ওয়েস্ট ইন্ডিজ (প্রথম ইনিংস)- ৩১৮/১০ (১০২ ওভার) (ব্র্যাথওয়েট ৬৫, ডওরিচ ৬১; স্টোকস ৪/৪৯, অ্যান্ডারসন ৩/৬২) 

ইংল্যান্ড (দ্বিতীয় ইনিংস)- ৩১৩/১০ (১১১.২ ওভার) (ক্রলি ৭৬, সিবলি ৫০, স্টোকস ৪৬; গ্যাব্রিয়েল ৫/৭৫, জোসেফ ২/৪৫) 
ওয়েস্ট ইন্ডিজ (দ্বিতীয় ইনিংস)- ২০০/৬ (৬৪.২ ওভার) (চেজ ৩৭, ব্ল্যাকউড ৯৫, ডওরিচ ২০, হোল্ডার ১৪* ; আর্চার ৩/৪৫, স্টোকস ২/৩৯)
 

পাঠকের মন্তব্য