ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ

টেস্ট ক্রিকেটে এখন বোলারদের যুগ চলছে। সেক্ষেত্রে প্রথম ইনিংসে ৩০০ রান দাঁড় করাতে পারলেই টেস্ট জয়ের পথ অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। তবুও অন্য দেশের ব্যাটিংয়ের তুলনায় টেস্টে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। টেস্ট জিততে হলে উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের বড় সংগ্রহ গড়ার বিকল্প নেই। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত গড়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১২টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে ৯ নম্বরে।
 
বছর দুয়েক আগে ফিরে গেলে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত গড়টা আশা জাগানিয়া হলেও গত দুই বছরে তাদের পারফরম্যান্স অনেকটাই নেমে এসেছে। তাই ব্যাটিংয়ের হিসাব আসলে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের থেকেও।

বাংলাদেশ অবশ্য নিয়মিত ভাবে পাঁচজন ব্যাটসম্যানকে একসঙ্গে খেলাতে পারেনি। ইনজুরি, বিশ্রাম আর নিষেধাজ্ঞার কারণে সাকিব নিয়মিত ছিলেন না টেস্ট দলে। তামিমও চোট আর বিশ্রামের জন্য কয়েক সিরিজে দলের বাইরে ছিলেন। এ ছাড়া পারফরম্যান্সের অভাবে বাদ পড়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফলে মুশফিকুর রহিম আর মুমিনুল হক ছাড়া কেউই নিয়মিত খেলতে পারেননি। এর ফলে বাংলাদেশের সার্বিক পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলেছে তা। 

গেল দুই বছরে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানদের গড়ে সবচেয়ে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। ১৮ ম্যাচে কিউই টপ-মিডল অর্ডারের ৫ ব্যাটসম্যান ৪০.৫৮ গড়ে রান করেছেন। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ২৪ টেস্টে ৪০.১৫ গড়ে রান করেছেন।

অস্ট্রেলিয়া আর পাকিস্তানের শীর্ষ পাঁচে খেলা ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং গড় যথাক্রমে ৪০.০৪ এবং ৩৬.৮৭। বেশি টেস্ট ম্যাচ না খেললেও এই তালিকায় পাঁচ নম্বরে আছে জিম্বাবুয়ে। তাদের উপরে খেলা পাঁচ ব্যাটসম্যান ৩৪.৩২ গড়ে রান করেছেন। এর পরই আছে শ্রীলঙ্কা। তাদের উপরের সারির ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং গড়  ৩৩.৬১। ২৮ ম্যাচে ৩২.১০ ব্যাটিং গড় দিয়ে ৭ নম্বরে ইংল্যান্ড। টেস্ট আঙিনায় নতুন পা রাখা আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা ৪ টেস্ট ম্যাচে ২৯.৪০ গড়ে রান করেছেন।

নয় নম্বরে আছে বাংলাদেশ। ১৫ টেস্টে উপরের সারির টাইগার ব্যাটসম্যানরা ২৯.১৯ গড়ে রান করেছেন। এরপর ২১ ম্যাচে ২৮.৮৬ গড় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের। ১৫ ম্যাচে ২১.৭১ গড় ওয়েস্ট ইন্ডিজের উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের। আর ৩ টেস্টে ১৮.৮২ গড় নিয়ে সবার তলানিতে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। 


 

পাঠকের মন্তব্য