সেব্রেনিৎসা গণহত্যার ২৫তম বার্ষিকী পালন

শোক ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বসনিয়ায় পালন করা হয়েছে বসনিয়া-সার্বিয়া যুদ্ধের সময়ে সেব্রেনিৎসায় সার্বীয় বাহিনীর পরিচালিত বসনিয় মুসলমানদের গণহত্যার ২৫তম বার্ষিকী।

শনিবার (১১ জুলাই) দিবসটি উপলক্ষে বসনিয়ার সেব্রেনিৎসার পোতাচারি কবরস্থান ও মেমোরিয়াল সেন্টারে অনুষ্ঠিত শোকানুষ্ঠানে দেশটির রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক ব্যক্তিত্ব, বিদেশী কূটনীতিক, নিহতদের স্বজনসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

গণহত্যার ২৫ বছর পার হলেও এখনো সেব্রেনিৎসার বিভিন্ন গণকবর থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। এ বছর এরূপ নয় জনের লাশ পোতাচারির কবরস্থানে যথাযথ মর্যাদার সাথে দাফন করা হয়েছে।

১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়ার পতনের পর বৃহত্তর সার্বিয়া প্রজাতন্ত্র থেকে বসনিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্নে স্থানীয় বসনীয় মুসলমান ও সার্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই সার্বীয় বাহিনী বসনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় মুসলিম অধ্যুষিত সেব্রেনিৎসা এলাকা দখল করে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষিত এবং জাতিসংঘের ডাচ শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও সার্বীয় বাহিনী সেব্রেনিৎসা দখল করে এতে চালায় নারকীয় গণহত্যা ও জাতিগত শুদ্ধি অভিযান।

বসনিয়ায় সার্ব জেনারেল রাতকো ম্লাডিচ গণহত্যার সময় এক টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, শহরটি আমরা সার্বিয়ার জনগণকে উপহার হিসেবে দিয়েছি।

১১ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চালানো এ গণহত্যায় আট হাজারের বেশি বসনিয় মুসলমানকে হত্যা করা হয়। হত্যার শিকার ব্যক্তিদের মৃত্যুর আগে নিজেদের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে সার্বীয় বাহিনী।

এই গণহত্যা চলার সময় জাতিসংঘ নীরবতা পালন করলেও পরে একে ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযান’ বলে স্বীকৃতি দেয়।

সাবেক যুগোস্লাভিয়া ভেঙে পড়ার পর বসনিয় মুসলমানরা ১৯৯২ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত গণভোটে বসনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের রায় দেয়। বসনিয়দের এ স্বাধীনতার দাবি বানচাল করতেই সার্বরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বসনিয়ায় সার্ব বাহিনীর হামলায় দুই লাখের বেশি বসনিয় মুসলমান নিহত ও প্রায় বিশ লাখ শরণার্থী হয়।

পাঠকের মন্তব্য